স্বাস্থ্যবিধি লঞ্চে নেই, ট্রেনে মোটামুটি, বাসে অর্ধেক - BNews Bulleting

বাংলাদেশ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১

স্বাস্থ্যবিধি লঞ্চে নেই, ট্রেনে মোটামুটি, বাসে অর্ধেক - BNews Bulleting

স্বাস্থ্যবিধি লঞ্চে নেই, ট্রেনে মোটামুটি, বাসে অর্ধেক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই, ২০২১ ৬:৪৮ : অপরাহ্ণ

বিএনবি ডেস্ক : পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে রাজধানী ছাড়ছেন কর্মজীবী মানুষ। নগরবাসীর স্রোত গিয়ে থাকছে টার্মিনালগুলোতে। এর মধ্যে ট্রেনে স্বাস্থ্যবিধি মোটামুটি মানা হলেও বাসে তার অর্ধেক দেখা গেছে। আর লঞ্চগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নেই বললেই চলে। ফলে লঞ্চ ও বাসের যাত্রীরা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে ঘরমুখো হচ্ছেন। নগরীর টার্মিনালগুলো ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। এ জন্য যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে।

সকালে কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে নির্ধারিত সময়ে বেশ কয়েকটি ট্রেন ছেড়ে গেছে। প্রতিটি ট্রেনই অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে গন্তব্যে ছুটছে। স্টেশনের প্রবেশপথেও যাত্রীদের হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার লাগানো হচ্ছে, মাপা হচ্ছে শরীরের তাপমাত্রা। আন্তঃনগরের কোনও ট্রেনেই টিকিট ছাড়া যাত্রী উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে বেসরকারিভাবে চলাচলরত কমিউটার ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আসনেরও টিকিটি বিক্রি করা হচ্ছে। এই ট্রেনগুলো সব স্টেশনে থামার কারণে অতিরিক্ত যাত্রী জোর করে ট্রেনগুলোতে উঠে যান বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

কমলাপুর রেল স্টেশন
এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, লোকাল ট্রেনের স্বাস্থ্যবিধি না মানার আশঙ্কা আমাদেরও ছিল। কারণ লোকাল ট্রেন প্রতিটা স্টেশনে থামে। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ যাত্রী উঠে। এটা বন্ধ করা গেলে লোকাল ট্রেনগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানানো যাবে। তবে আন্তঃনগরের কোনও ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী উঠার সুযোগ নেই। ট্রেনগুলোকে অর্ধেক আসান ফাঁকা রেখেই পরিচালনা করা হচ্ছে।

গাবতলী টার্মিনাল
সায়েদাবাদ, গাবতলি ও মহাখালী টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে বড়বড় কোম্পানিগুলোর এসি বাসগুলোতে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করা হলেও অধিকাংশ বাসই তা মানছে না। সব আসনে যাত্রী নিয়ে তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। গাবতলি টার্মিনালে দেখা গেছে সেলফি পরিবহনের একটি বাসে পাশাপাশি যাত্রী তোলা হচ্ছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি পরিবহন অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা দিতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, যে কোম্পানি বা মালিক আইন লঙ্ঘন করে পরিবহন পরিচালনা করবে তার সদস্যপদ বাতিল হবে। আমরা এরই মধ্যে সব মালিক ও কোম্পানিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি তারা যেন স্বাস্থ্যবিধিসহ সরকারি নিয়ম মেনে পরিবহন পরিচালনা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও আমরা অনুরোধ করেছি তারা যেন সড়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

অপরদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। স্বাস্থ্যবিধির কোনও তোয়াক্কাই নেই এই টার্মিনালে। প্রতিটি পল্টুনেই অতিরিক্ত যাত্রী। লঞ্চগুলোর ডেকের পাশাপাশি সিঁড়ি, বিভিন্ন কেবিনের সামনের গলি ও ছাদেও যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো যাত্রা করলেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

হাতিয়া গামী তাসরিফ-১ লঞ্চের যাত্রী মামুনুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, লঞ্চ থেকে ফোন করে জানানো হয়েছে সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে সকাল আটটায় লঞ্চ ছেড়ে দিবে। এরমধ্যে সব যাত্রী এসে লঞ্চ ভরে গেছে। কিন্তু এরপরও লঞ্চ ছাড়েনি। ৮টার পরিবর্তে সেই লঞ্চ ছেড়েছে ১০টায়। কোথাও পা রাখার জায়গা নেই। ডেকে হাঁটা যায় না। ছাদেও যাত্রী রয়েছে। বৃষ্টি হলে তাদের ভিজতে হবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ( বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চয়তায় যাত্রীদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। টার্মিনালের পল্টুনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে। তারা যাত্রীদের বারবার মাস্ক পরার কথা বলছেন। এছাড়া যাত্রীদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নৌ-পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ এর কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত আছেন।

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

সকল নিউজ