ইসলামে বিবাদ মীমাংসার ফজিলত ও পদ্ধতি - BNews Bulleting

বাংলাদেশ, ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

ইসলামে বিবাদ মীমাংসার ফজিলত ও পদ্ধতি - BNews Bulleting

ইসলামে বিবাদ মীমাংসার ফজিলত ও পদ্ধতি

প্রকাশ: ৭ জুন, ২০২১ ১:৩৫ : অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক : সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানুষ। তারপরও সমাজ জীবনে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদসহ নানা ধরনের নিন্দনীয়, অপ্রত্যাশিত কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ কারণে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত সৎকর্ম নষ্ট হয়ে যায়। সাধারণত পারস্পরিক গালিগালাজ, দ্বন্দ্ব-কলহ, অশ্লীল ও অশালীন কথাবার্তার মাধ্যমে বিবাদ শুরু হয়। বিবাদ মীমাংসা না হলে শেষ পর্যন্ত মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনে। ঝগড়া, মারামারি, প্রাণহানির মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে সমাজের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। বিবাদ কেবল সামাজিক সমস্যা নয় বরং এটি পারিবারিক সমস্যাও বটে। যেকোনো ধরনের বিবাদই হোক না কেন, তা মীমাংসার মাধ্যমে সমাধান করা উত্তম পন্থা। যেকোনো সংঘাতের সূচনাতেই যদি সেটাকে শেষ করে দেওয়া যায় তবে তাতে সবারই কল্যাণ। পরিবার ও সমাজে শান্তি বজায় রাখার জন্য যেকোনো ধরনের মীমাংসা করা সবারই কর্তব্য।

সংসারে বিবাদ

পারিবারিক বিবাদ মীমাংসায় মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা উভয়ের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের আশঙ্কা করো, তাহলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন, স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন বিচারক নির্ধারণ করো। যদি তারা উভয়ে মীমাংসার ইচ্ছা করে তবে আল্লাহ তাদের উভয়ের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও সব কিছু অবহিত।’ সুরা নিসা : ৩৫

সামাজিক বিবাদ

মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুমিনদের দুটি দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর তাদের একটি দল যদি অন্য দলের ওপর বাড়াবাড়ি করে, তবে যে দল বাড়াবাড়ি করছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না সে আল্লাহর হুকুমের দিকে ফিরে আসে। সুতরাং যদি ফিরে আসে তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়সংগতভাবে মীমাংসা করে দাও এবং ইনসাফ করো। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন। মুমিনরা পরস্পর ভাই-ভাই। সুতরাং তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দাও, আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।’ সুরা হুজরাত : ৯-১০

হাদিসের নির্দেশনা

যেসব কর্মকাণ্ডে বিবাদের সূচনা হয়, ওইসব কর্মকাণ্ডকে উপেক্ষা করে এসব থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা অন্যের দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করবে না, গুপ্তচরবৃত্তি করবে না, পরস্পরের সঙ্গে ঝগড়া-ফ্যাসাদ করবে না, পরস্পরের সঙ্গে হিংসা-বিদ্বেষ করবে না, পরস্পরকে ঘৃণা করবে না এবং পরস্পরের ক্ষতি সাধন করার জন্য পেছনে লাগবে না। আর তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে যাবে।’ সহিহ্ বোখারি ও মুসলিম

বিবাদ মীমাংসার ফজিলত বর্ণনায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে না এমন সবাইকে মাফ করে দেওয়া হয়। তবে ওই দুই ব্যক্তি ছাড়া যারা পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ করে। তাদের সম্পর্কে বলা হয়, পরস্পর মিলে যাওয়া পর্যন্ত এদের বিষয়টি মওকুফ রাখো (তিনবার)।’ সহিহ্ মুসলিম : ২৫৬৫

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি ন্যায়ের ওপর থাকা সত্ত্বেও বিবাদ পরিহার করে, তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি ঘর তৈরি করা হবে।’ তিরমিজি : ১৯৯৩

বিবাদকারীদের বিবাদের কারণ উপলব্ধি ও উদঘাটন করে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া অনেক বড় ফজিলতের বিষয়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি কী তোমাদের রোজা, নামাজ ও সদকা থেকেও উত্তম বিষয় সম্পর্কে বলব না? সাহাবিরা বললেন, আল্লাহর রাসুল! অবশ্যই বলুন। তিনি বলেন, ‘বিবাদরতদের মধ্যে মীমাংসা করা। আর জেনে রেখো, পরস্পর বিবাদই মানুষের দ্বীন মুড়িয়ে দেয়।’ তিরমিজি : ২৫০৯

বিবাদ মীমাংসার উপকারিতা

সমাজ ও পরিবারে বিদ্যমান বিবাদ মীমাংসার ফলে পরিবার ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা, সুখ-সমৃদ্ধি, ঐক্য-সম্প্রীতি, সাম্য-মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের নিদর্শনস্বরূপ মানুষের পরস্পরের মধ্যে স্নেহ-মায়া-মমতা, শ্রদ্ধাবোধ, সহানুভূতি, ধৈর্য-সহনশীলতা, সততা, বিশ্বস্ততা, সংবেদনশীলতা প্রভৃতি মানবিক গুণাবলি গড়ে ওঠে। পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার ফলে জাতি ধর্ম বর্ণ দল-মত নির্বিশেষে সব মানুষের শান্তিপূর্ণ সমঝোতা ও সহাবস্থানে মন থেকে স্বার্থপরতা, নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা ও হৃদয়হীনতার পাশবিক বৈশিষ্ট্য দূর হয়ে যায়। পারিবারিক জীবনে বিবাদ নিরসনের ফলে অনাবিল সুখ শান্তি বিরাজ করে, পারিবারিক জীবন তখন স্বর্গীয় সুখের মতো মনে হয়।

সূত্র : দেশ রূপান্তর

সকল নিউজ