আমেরিকায় ৬৬৩টি নতুন মসজিদ - BNews Bulleting

বাংলাদেশ, ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

আমেরিকায় ৬৬৩টি নতুন মসজিদ - BNews Bulleting

আমেরিকায় ৬৬৩টি নতুন মসজিদ

প্রকাশ: ৭ জুন, ২০২১ ১১:৪৭ : পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক : ইসলামিক সেন্টার উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বড় ও পুরনো মসজিদ। এটি মিশিগান শহরের ডারবানে অবস্থিত। আমেরিকার মুসলিমদের কাছে তো বটেই, সারা পৃথিবীর মুসলিমদের কাছে এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত।

কথিত ইসলামফোবিয়ার মাঝেও মার্কিন মুলুকে মসজিদের সংখ্যা বাড়ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য অ্যামেরিকান মস্ক ২০২০ : গ্রোয়িং অ্যান্ড ইভোলভিং’ শীর্ষক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল অনুসারে, ২০১০ সালে আমেরিকায় মসজিদের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১০৬টি। ২০২০ সালে এই সংখ্যা ৩১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯টি। ‘আমেরিকায় মুসলমানদের অভিবাসন ও অধিক জন্মহারের কারণে মুসলিম জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। মুসলিম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের সংখ্যাও বাড়ছে’ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

ইসলামিক সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা (ইসনা), সেন্টার ফর মুসলিম ফিলানথ্রপি, ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং (আইএসপিইউ) ও দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব স্ট্যাটিসটিসিয়ানস অব আমেরিকান রিলিজিয়াস বডিস (এএসএআরব)-সহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় এই জরিপ চালানো হয়।

আশার কথা হলো, দেশটিতে শুধু মসজিদ বেড়েছে এমন নয়, মসজিদের জামাতে আসা মুসল্লিদের সংখ্যাও বেড়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২০ সালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, শুক্রবারে জুমার নামাজে প্রতি মসজিদে গড়ে ৪১০ জন মুসল্লি উপস্থিত থাকেন। ২০১০ সালে এই উপস্থিতির সংখ্যা ছিল ৩৫৩ জন। এ হিসাব অনুসারে মসজিদে মুসল্লির উপস্থিতি বেড়েছে ১৬ শতাংশ। চার ভাগের তিন ভাগ মসজিদে (৭২ শতাংশ) জুমার নামাজে মুসল্লিদের উপস্থিতি বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি।

তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, মসজিদে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘২০১০ সালে মসজিদে ইসলাম গ্রহণের গড় সংখ্যা ১৫.৩ থেকে ২০২০ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ১১.৩ জন।

মসজিদে ইসলাম গ্রহণের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদে বিশেষ করে আফ্রিকান-আমেরিকান মসজিদে আফ্রিকান-আমেরিকান ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা কমে যাওয়াই এর কারণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদগুলো বর্তমানে উপশহরকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে ছোট শহর এবং বড় শহরের কেন্দ্র থেকেও মসজিদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ছোট শহরগুলোতে ২০১০ সালে মসজিদের সংখ্যা কমেছে ২০ শতাংশ, অপরদিকে ২০২০ সালে মসজিদের সংখ্যা কমেছে ছয় শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোট শহরে চাকরি কমে যাওয়ায় মসজিদ প্রতিষ্ঠাতাদের সন্তান ও তরুণরা অন্য বড় শহরে শিক্ষা ও চাকরির জন্য চলে যাচ্ছে। ফলে মুসলিম জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় মসজিদের সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে। আমেরিকার প্রায় ৯৮ শতাংশ মসজিদ স্থানীয় মুসলমানদের দ্বারা পরিচালিত। স্বেচ্ছাদানের ভিত্তিতে উৎসাহী সদস্যরা মিলে মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। জরিপে বলা হয়েছে, অন্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর তুলনায় মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয় মুসলমানদের। যা ধর্মীয় বৈষম্য ও মুসলিমবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করে।

জরিপে অবশ্য আহমদিয়া (কাদিয়ানি) ও ইসমাইলিদের দ্বারা পরিচালিত মসজিদগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। জরিপে বলা হয়, মসজিদের জামাতে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের উপস্থিতির হার বেশি। এই বয়সীদের মসজিদে উপস্থিতির হার বেশ আশাব্যঞ্জক। কারণ, অন্য ধর্ম বিশেষ করে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের মধ্যে এই বয়সে গির্জা কিংবা উপাসনালয়ে যাওয়ার প্রবণতা খুবই কম। মুসলিম সম্প্রদায়কে এই শ্রেণির যুবকরা একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের আশা দেখাচ্ছেন। জরিপে এমন কিছু তথ্যই উঠে এসেছে। জরিপে বলা হয়েছে, শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলমানদের সার্বিক অগ্রগতি ঊর্ধ্বমুখী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় জনগোষ্ঠী হিসেবে মুসলিমরা তৃতীয় বৃহত্তম। আমেরিকায় প্রথম মসজিদ নির্মিত হয় ১৮৯৩ সালে শিকাগোতে। ২০১৭ সালে মার্কিন পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক শুমারিতে বলা হয়, দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ মুসলিম বসবাস করছেন। যা মোট জনগোষ্ঠীর ১ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন (সিএআইআর) নামে ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি অ্যাডভোকেসি সংগঠনের দাবি, আমেরিকায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ মুসলিম বসবাস করছেন।

সূত্র : দেশ রূপান্তর

সকল নিউজ