বেতাগীতে বৃষ্টির অভাব, বীজতলা রক্ষাই এখন বড় লড়াই - BNews Bulleting

বাংলাদেশ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ১৫ মে ২০২১

বেতাগীতে বৃষ্টির অভাব, বীজতলা রক্ষাই এখন বড় লড়াই - BNews Bulleting

বেতাগীতে বৃষ্টির অভাব, বীজতলা রক্ষাই এখন বড় লড়াই

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল, ২০২১ ৮:৩৪ : অপরাহ্ণ

সাইদুল ইসলাম মন্টু, বেতাগী : বরগুনার বেতাগীতে লড়াই এখন তৈরি করা বীজতলা (ধান-চারা যা অন্যত্র তৈরি করে চাষের মূল জমিতে পোঁতা হয়) বাঁচানোর। দীর্ঘ সাতমাস ধরে বৃষ্টির দেখা না মেলায় এ অবস্থায় আউশ ধানের বীজতলা তৈরি করতে বা বাঁচাতে সমস্যায় পড়ছেন চাষিরা। সেই সংগে ফসলের মাঠ, খাল-বিল ও ডোবা-নালার পানি শুকিয়ে শুন্য জলধার। দীর্ঘদিন ধরে অনাবৃষ্টি ও জোয়ারের পানি আশানুরূপ বৃদ্ধি না পাওয়ায় ইরি-বোরো ও আউশ মৌশুমের বীজতলা ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আবাদি জমি পুড়ছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বীজতলায় এখনই পানির বেশি প্রয়োজন ও আর্দশ সময়। তাই বৃষ্টির জন্য আরও অপেক্ষা করতে হলে আউশ মৌসুমে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে। কৃষক মো: ফরিদ হোসেন বলেন, কয়েক দশক ধরে চাষাবাদ করে আসছি কিন্ত এমন অবস্থা কখনও দেখিনি। এভাবে চলতে থাকলে চাষাবাদে দেরি হবে। চাষীদের একটা অংশের ধারনা এখন বৃষ্টিপাত হলে কোনমতে বীজতলা বাঁচবে। তবে বিলম্বিত হলে চাষাবাদের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাবে।

সরে জমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পৌরসভা সহ ৭টি ইউনিয়নে-সর্বত্রই কমবেশি ভুগছেন চাষিরা। কমবেশি সর্বত্রই ভুগচছন চাষীরা। বিভিন্ন এলাকায় জমি ফেটে চৌচির হয়ে উঠেছে। এতে কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টি ও খরতাপে এ জনপদে ডায়রিয়া মহামারী আকারে ধারন করে। এ কারণে করোনার চেয়েও ডায়রিয়ায় আতংকে ভুগছে মানুষ।

বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি প্রাকৃতিক ভাবে মাঠে প্রবেশের পর কৃষকরা সাধারনত ধান আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করে বীজ বপন করে। তবে অনেকেই এবার পানির অভাবে ধান রোপণ করতে পারছেন না। এ উপজেলায় কৃষকরা পানিসেচ দিয়ে বীজতলা তৈরি করলেও বীজ বপন করা নির্ভর করে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির উপর। এ বছর বৃষ্টিপাত না হওয়ার মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে আছে, তাই এখনও আউশ ফসলের মাঠ অনাবাদি রয়েছে।

উপজেলার বেতাগী গ্রামের কৃষক ফিরোজ হাওলাদার বলেন, এখানে কযেকমাস ধরে কোন বৃষ্টিপাত নেই, গেলবারে রবি মৌসুমে ফসলের ভাল ফলন মেলেনি, এখান বৃষ্টি না হলে সামনেও ধানের ফলন হবেনা। কৃষক হারুন মিয়া বলেন, বারবার সেচ দিয়েও বীজতলা শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে বীজতলা বাঁচানো কঠিন।’ কৃষক বাবুল মিযা জানান, পুকুরের জল সেচ করে বীজতলায় দিচ্ছিলেন। তা-ও শেষ। এখন বীজতলা কী ভাবে বাঁচাব, তা তিনি জানেন না।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, পানির অভাবে চাষিরা বীজতলা বাঁচাতেই এখন কস্ট। সময়মত চাষাবাদ করে বীজ বপন করতে না পারলে অনেক জমি অনাবাদি থাকার উপক্রম এবং এ মৌসুমে ফলন কম হতে পারে।

সকল নিউজ