বৈশাখীর প্রচন্ড দাবদাহ আম চাষিদের স্বপ্ন পুরনে বাধা - BNews Bulleting

বাংলাদেশ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ১৫ মে ২০২১

বৈশাখীর প্রচন্ড দাবদাহ আম চাষিদের স্বপ্ন পুরনে বাধা - BNews Bulleting

বৈশাখীর প্রচন্ড দাবদাহ আম চাষিদের স্বপ্ন পুরনে বাধা

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২১ ৯:১৬ : অপরাহ্ণ

মোঃ আইয়ুব হোসেন পক্ষী, শার্শা : যশোরের শার্শা উপজেলায় কিছু দিন ধরে প্রচন্ড তাপমাত্রায় বোটা থেকে ঝরে পড়ছে আম।কৃষক বিকল্প ব্যবস্থা করলেও কোন লাভ হচ্ছেনা তাতে। কেউ কেউ আম গাছের গোড়া কুপিয়ে পানি ঢেলেও পাচ্ছেন না কোন সুরহা।একারণে আম চাষে লোকশানের আশা করছেন চাষিরা ।
গেল বছরে আমপান ঝড় ও করোনা ভাইরাসের প্রাদুভাবের ক্ষতি পুষিয়ে উঠার আশা করছিলেন চাষিরা এবছর যে পরিমাণ আমের মুকুল দেখা গিয়েছিল তাই দেখে স্বপ্ন বুনতে  শুরু করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু প্রচন্ড দাবদাহে আশায় তাদের গুড়ে বালি হৃদয় পুড়ে হলো ছাই। চাষিদের এই স্বপ্নের মধ্যে ছাই ঢেলে দিচ্ছেন বৈশাখের প্রচন্ড দাবদাহ। বাংলাদেশের মধ্যে সর্বচ্চ তাপমাত্রা বয়ে চলেছে যেন যশোর অঞ্চল দিয়ে।
আম বাগান গুলোতে মুকুল আশার সাথে সাথে বেশি লাভের আশায় যত্ন শুরু করেন চাষিরা।কিন্তু প্রচন্ড দাবদাহে প্রতিদিনই বোঁটা থেকে ঝরে পড়ছে ছোট বড় আম। এভাবে চলতে থাকলে আম চাষ লাঠে উঠবে বলে আশা করছেন চাষিরা। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল জানান,তিন হাজার বিঘা জমিতে আম চাষ করছেন এক হাজারেরও বেশি কৃষক। লেংড়া ,ফজলী,রোপালী,হিমসাগর,গোপালভোগ,আম্রপালী,মল্লিকা জাতসহ অন্তত ২৭৫ আমের বাগান রয়েছে।
তিনি আরো বলেন ,গাছে আমের গুটি সুন্দর ভাবে রাখার জন্য গুটি ঝরা বন্ধ করা ও বিভিন্ ক্ষতিকর পোকার আক্রমন থেকে রক্ষার জন্য চাষিরা সবিরাম পরিচর্যা করে যাচ্ছেন। মেীসুমী কর্মসংস্থানের জন্য হা করে বসে থাকেন অন্তত ১৮-২০ হাজার শ্রমিক।
সামটা গ্রামের মফিজুর রহমান বলেন, এবছর আম গাছে অনেক গুটি এসেছিল কিন্তু প্রচন্ড তাপে আমাদের সব স্বপ্ন পুড়ে যাছে। আমের গুটি তাপে সব ঝরে পড়ে যাচ্ছে। আমরা গাছে গোড়ায় পানি দিচ্ছি কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না।
হাড়িখালী গ্রামের আমজেদ আলী বলেন,আম যা হয়েছিল তাতে খুব খুশি ছিলাম কিন্তু প্রচন্ড তাপে আম সব ঝরে পড়ছে । এতে ২ লাখ টাকার বাগান ৮০হাজার টাকায়ও বিক্রি হবে না । জামতলার সালাম বলেন,আম ঝরে পড়ার পাশাপাশি আমে পঁচন দেখা যাচ্ছে।
এবছরও লোকশান গুনতে হবে আমাদের। বাগান মালিকদের বিঘা প্রতি অগ্রিম ৪০-৪৫ হাজার টাকা দিতে হয়।আবার বাগান পরিচর্যার কাজে প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয় । আম চাষে এখন লাভ তো দুরের কথা খরচের টাকাও উঠবে না। যদি আকাশের বৃষ্টি হত তাহলে হয়ত আম গুলো ঝরা বন্ধ হত। এমনটায় প্রত্যাশা আম চাষিদের।

সকল নিউজ