ক্রিপ্টো কারেন্সির কিস্তিমাত - BNews Bulleting

বাংলাদেশ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, শনিবার, ১৫ মে ২০২১

ক্রিপ্টো কারেন্সির কিস্তিমাত - BNews Bulleting

ক্রিপ্টো কারেন্সির কিস্তিমাত

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১২:৩৭ : পূর্বাহ্ণ

রেজওয়ান রেজা : প্যান্ডেমিক পরবর্তী বিশ্ব একটি ম্যাসিভ চেঞ্জের ভিতর থেকে যাচ্ছে। সব থেকে বড় উত্থান পতন ঘটতে চলেছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। আমাদের পরিচিত অর্থ ব্যবস্থা যে আর থাকছে না সেটা নিশ্চিত।

বিশেষত কয়েকটি বিষয় আমাদের লক্ষ্য করতে হবে
১/ক্রিপ্ট কারেন্সি তথা বিটকয়েনের উথপত্তি।
২/ ফসিল ফুয়েলের যুগের প্রায় অবসান।
৩/ বিল গেটসের টেক জায়ান্ট থেকে কৃষি জায়ান্টে রূপান্তর এবং আদানী আম্বানীদের কৃষি ক্ষেত্রে ইনভেস্টের পথ প্রশস্ত করতে ভারতে নতুন আইন এর জন্মলাভ।

গত শতাব্দীর শেষের দিকে কোন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রনহীন ডিজিটাল কারেন্সির ধারনার উপর দাঁড়িয়ে ২০০৯ এ যখন বিট কয়েন এর আবির্ভাব হয় তখন যথারীতি অধিকাংশ মানুষ নাক ডাকিয়ে ঘুমালেও ভুত দেখার মতই শিতল শিহরন বয়ে গিয়েছিল ব্যাংকিং খাতের অনেকের।যদিও প্বার্শবর্তী দেশ ইন্ডিয়ায় বিট কয়েন বৈধতা পেয়েছে কিন্তু আমাদের দেশে এখনও এটা অনুমোদিত কারেন্সি নয়। তাই এর প্রাক্টিকাল নয় যাস্ট থিওরিটিকাল ধারনা নিতে এবং করোনা পরবর্তী যুগে আমাদের খাপ খাওয়াতে এর গুরুত্ব বুঝতেই আজকের পোষ্ট।

আজ আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে যখন আমরা যখন কোন ট্রান্সেকশ্ন করি তখন লাভের গুড়ের বড়টাই মিডলম্যানরা নিয়ে যায়। যেমন ফেসবুকে যা লিখছি তাতে আমি লেখক, অন্যরা পাঠক কিন্তু লাভবান হচ্ছে ফেসবুক। একি ভাবে অর্থনৈতিক ট্রান্সেকশ্ন ও এভাবেই চলছে। তাই সেন্ট্রাল সকল নিয়ন্ত্রনকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বিটকয়েন। যদিও সাতসী নাগামটো নামের একজন রহস্যময় ব্যক্তিকে বিটকয়েন এর আবিষ্কারক বলা হয় কিন্তু আদপে এই নামে কেউ আছে কিনা সেটা নিয়েই সবাই সন্দিহান।

এখন বিটকয়েন এর কার্যকলাপ বুঝতে হলে আমাদের কিছু প্রশ্নের উত্তর খুজতে হবে। যেমন যে কোন রাষ্ট্রের কারেন্সির নিশ্চয়তা দেয় সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিন্তু ক্রিপ্টো কারেন্সির নিশ্চয়তা দেয় ব্লকচেইন সিস্টেম। এটা একটা অনলাইন ডকুমেন্টেশন যা স্থায়ী ভাবে তথ্য সংরক্ষন করে কিন্তু সে তথ্য কোন কেন্দ্রীয় মেমরীতে থাকে না, থাকে সদস্যদের সবার কম্পিউটর এ। ফলে বলা যায় এই তথ্য স্থায়ী কারন একটা দুইটা কম্পিটর ক্রাশ করলেও লাখ লাখ গ্রাহকের কম্পিউটরে ঠিকই থেকে যাচ্ছে এ তথ্য। তাই এক্সপার্টরা মনে করে কারেন্সির মতই ডিজিটাল কারেন্সিও নিরাপদ।যদিও বাবারও বাবা থাকে, বসদের ও বস থাকে। দেখা গেল বিটকয়েনের দাম আকাশে তুলে হঠাত হাওয়া হয়ে গেল এই সিস্টেম। হলেও হতে পারে কিন্তু এই ভয় কেটে গিয়েছে যখন ঈলন মাস্কের টেসলা ১.৫ বিলিয়ন ইনিভেস্ট বিটকয়েনে ট্রান্সফার করেছে যা ইনভেস্টরদের ভয় কাটিয়ে দিয়েছে আর একটা কয়েনের মূল্য বাড়তে বাড়তে আজ ১৮ লাখ টাকায় এসে ঠেকেছে। আবার বিট কয়েনের ডিজাইনার এর সংখ্যা ২১ মিলিয়ন ফিক্সড করে রেখেছে এবং মূল্য ধরে রাখতে নির্দিষ্ট সংখ্যায় তা মার্কেটে ছাড়ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ মিলিয়ন কয়েন মার্কেটে আছে ফলে চাহিদা বাড়লেও কয়েনের জোগান নির্দিষ্ট হওয়াতে দাম এখন আকাশচুম্বী। আর বির্তমান বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য খর্ব হয়ে যখন একাধিক অক্ষ সৃষ্টি হয়েছে তখন গ্লোবাল প্লেয়াররা বাধাহীন বানিজ্যের জন্য ডিজিটাল কারেন্সিতে ঝুকবে এ আর অস্বাভাবিক কি। আর সাথে সাথে দিনকে দিন বিটকয়েন এর দাম ও ফুলে ফেলে উঠেছে। প্রথম দিকে কেউ কেউ বিট কয়েন দিয়ে পিজা কিনেছে আর কিছুদিনের ভিতর হয়ত কয়েকটা বিট কয়েন দিয়ে টেসলার গাড়ি কিনবে!!

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, কারা এই ক্রিপ্ট কারেন্সির অদৃশ্য প্লেয়ার? কারা ধীরে ধীরে সমস্ত বিশ্বের অর্থনীতিকে কুক্ষিগত করে নিচ্ছে? শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধনতন্ত্রকে স্টাবলিশ করা রসথচাইল্ড দের কি কোন খেলা নেই এখানে? রাষ্ট্রের কারেন্সি ফল করলে রাষ্ট্রকে ধরা যায়, কিন্তু এক্ষেত্রে? ডলার, ইউরো কে ছিড়ে খুরে ফেলার স্বপ্ন দেখতে যেয়ে বিশ্ব কি তবে বাধা পরছে নতুন কোন অদৃশ্য প্লেয়ারের হাতে?

সকল নিউজ